Featured

‘চুপ করে থাকো, কাউকে বোলো না!’

  • নিষ্পাপ শৈশবে- যখন উড়ে যাওয়া এরোপ্লেন দেখে পাইলট হতে ইচ্ছে করে। ফেরিওয়ালার ঝুড়িতে রঙবেরঙের পসরা দেখে পথে পথে ঘুরে ফেরি করতে ইচ্ছে করে। দাদার রেডিওর সমস্ত পার্টস খুলে- আর না লাগাতে পেরে স্টোর রুমে লুকিয়ে রেখে ভবিষৎ সায়েন্টিস্ট প্রস্তুতি নিচ্ছে দুনিয়া জয়ের। স্কুল ম্যাগাজিনে নিজের প্রথম প্রকাশিত লেখা ভবিষৎ সাহিত্যিকের ক্ষুদে বুকটা ভরিয়ে তুলছে- সেই সময়ই কিছু শিশুকে মুখোমুখি হতে কুৎসিত কালো থাবার। বিনা অপরাধে রঙিন নিষ্পাপ স্বপ্নগুলো হারিয়ে যায় দুঃস্বপ্নের ভীড়ে। জীবনটা হয়ে ওঠে বিভীষিকা।
    Continue reading “‘চুপ করে থাকো, কাউকে বোলো না!’”

দেশের বাড়ি কই?

আমাকে বাঙলাদেশী কেউ যখন জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার গ্রামের বাড়ি কই?’ বা ‘আপনার দেশের বাড়ি কই?’ যদিও তাঁরা মূলত জানতে চান আমার পৈতৃক নিবাস কই, আরো ভালো করে বললে আমার বাবা বাঙলাদেশের কোন জেলা থেকে এসেছেন। আমি সাধারণত উত্তর দেবার সময় বলি, আমার দাদুবাড়ি মাদারীপুর, নানুবাড়ি লক্ষ্মীপুর, আমার জন্ম ও বড় হওয়া ঢাকায়। বেশিরভাগ দাপ্তরিক কাগজপত্রে যদিও আমার স্থায়ী ঠিকানা পৈতৃক নিবাস অনুযায়ীই দেয়া আছে,  আমি মূলত পিতার দিক দিয়ে শহরে মাইগ্রেট হওয়া দ্বিতীয় প্রজন্ম ও মাতার দিক দিয়ে শহরে মাইগ্রেট হওয়া তৃতীয় প্রজন্ম। তাই পৈতৃক নিবাসের নাম দিয়ে  দাপ্তরিক কাজ চললেও, ব্যক্তিগত পরিচয় ও মোয়ামালাতে প্রশ্নকর্তা আমার মোটামোটি পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড জানার হ্বকদার বলে মনে করি। Continue reading “দেশের বাড়ি কই?”

জিজ্ঞাসা

আমি উষ্ণ ঘরের ভেতর থরথর করে কেঁপেছি,
হৃদপিন্ড শীতল করা ভয়ে।
কারণ আমি জেনেছি, খুব নিকটে একটা আগ্নেয়গিরি উষ্ণতা ছড়াচ্ছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক আমি, হন্যে হয়ে ছুটে বেড়িয়ে খুঁড়ে এনেছি প্রাচীন একটি শীলালিপি। যেখানে লেখা ছিলো আগ্নেয়গিরিটির উদগিরণের সম্ভাব্য সন-তারিখ।
আমি যখন জানতে পেরেছি আজকেই সেই দিন
তখন আর পালিয়ে যাবার সুযোগ নেই।
আমি অবিরল কোলাহলের মধ্যে একা দাঁড়িয়ে রইলাম।
আমার ডান পাশে আনন্দ, বাম পাশে বেদনা, মাথার ওপর ভালোবাসা, চোখের কাছে স্বপ্ন, বুকের কাছে আমার সন্তান।
আমি সকল ইহজাগতিকতার মাঝে স্থাণু হয়ে রইলাম। আহা! আমি যদি জানতাম জানায় সব সুখ নেই। আমি যদি জানতাম জ্ঞা ধাতু জাত লোকপ্রিয় শব্দটি আমাকে জানাবে আমি সুখে নেই।

জিজ্ঞাসা
– ১৮/১০/২০১৮

মেরামত, পুনঃব্যবহার ও লেন্ডিং সেন্টার

মার্কিন মুল্লুকে  কিছু রিপেয়ার করানো বেশ ব্যয়বহুল একটা কাজ। সেদিন আমার ফোনের চার্জিং পোর্ট রিপ্লেস করাতে খরচ নিলো ৯০ ডলার। অর্থাৎ প্রায় আট হাজার টাকা। বাজেট আরেকটু বাড়ালে আমি নতুন একটা ফোনই কিনে ফেলতে পারতাম। ফোন মেমোরিতে পারিবারিক স্মৃতিবিজড়িত ছবিগুলো না থাকলে হয়তো তাই করতাম। অথচ এই চার্জিং পোর্ট ঠিক করার স্কিলটা আমার নিজের থাকলে খরচ পড়তো কেবল ২৫ ডলার, শুধু পার্টসের দাম।
আমাদের বাসার (দেশে) ন্যাশনাল কোম্পানির ফ্রিজ প্রায় সাতাশ বছর ধরে প্রায় বিনা উপদ্রবে  সার্ভিস দিয়ে আসছে। অথচ এখনকার উন্নততর প্রযুক্তিতে বানানো ফ্রিজগুলো কয়েকবছরের মাঝেই ঝামেলা শুরু করে। অসাধু কলমিস্ত্রি যেমন ইচ্ছা করেই কিছু ডিফেক্ট রেখে যায়, যেন বার বার তাকে ডাকার দরকার পড়ে, এইটাই বড় লেভেলে করছে বড় কোম্পানিগুলো। ফাস্ট ফ্যাশন (অল্প সময়ে, তুলনামূলক কম টেকসই, বিপুল পরিমাণ পোশাক উৎপাদন করা ও অল্প মূল্য বিক্রি করার নাম ফাস্ট ফ্যাশন) কিছুদিন পর পর নতুন ডিজাইনের পোশাক অপ্রয়োজনীয় পোশাক কিনতে প্রলুব্ধ করছে। প্রতিবছর ফিচার আপডেট করে যেমন আপনাকে নতুন ফোন সেট কিনতে উৎসাহী করছে ফোন কোম্পানিগুলো।

Continue reading “মেরামত, পুনঃব্যবহার ও লেন্ডিং সেন্টার”

প্রশ্ন ও উত্তর

অবেলায় এক উত্তর এসে বসে থাকে উঠোনেতে
খানিকটা যেন চুপিসারে তার উৎসুক আঁখি পেতে;
যদি বা সে জানে,
এবেলায় তাকে ডাকে নি এখানে কেউ।
তবে সে জানে না,
নিরুপায় ঘরে প্রশ্ন তুলেছে ঢেউ।

ব্যাকরণ মেনে সন্ধিসূত্রে মিলে না যে এরা দুটি।
না না…
অভিমান নয়, রাগ – ক্ষোভ নয়,
পরাজয় নয়, অপমান- ভয়;
ওসব কবেই নিয়েছে ছুটি! Continue reading “প্রশ্ন ও উত্তর”

‘তোমাই’ ইশকুলে তত্তচান

— মূলঃ তোৎসুকো কুরোইয়ানাজি, Totto-Chan: The Little Girl at the Window

Totto-chan

নতুন ইশকুল

মায়ের হাত ধরে গুটগুট করে হেঁটে ইশকুলের গেটের কাছে পৌঁছুলো তত্তচান। তার আগের ইশকুলে ছিলো ইয়াব্বড় লোহার গেট। আর এই ইশকুলের গেটটা একদম অন্যরকম। দুপাশে দুটো গাছের গুঁড়ি। তার গা বেয়ে আবার সবুজ লতানো গাছ উঠে গেছে। লতাপাতা- ফুলসহ গেটটাকে দেখতে কী সুন্দরই না লাগছে!
গাছের গুঁড়ির গায়ে একটা নামফলক বসানো আছে। তত্তচান বানান করে পড়তে লাগলো- ‘তো- মা- ই- গা- কু- য়েন’ Continue reading “‘তোমাই’ ইশকুলে তত্তচান”

টুকরো দিনলিপি- ৩

biral

টুপ করেই চড়ুইটা মরে গেলো। মরে গেলো না- আসলে বলা উচিত হত্যা করা হলো! কিছুক্ষণ আগেও ছোট ছোট ডানা নিয়ে মুক্ত আকাশে ঘুরে বেড়াতো। এক শহুরে বিড়ালের শিকার হয়ে গেলো!

কয়েক মুহূর্ত আগে। চড়ুইটা ছড়িয়ে দেওয়া রুটির টুকরো খাচ্ছিলো টুক টুক করে। বিড়ালটার দিকে তাকিয়ে বড় রাগ হলো! নিষ্পাপ মায়াবতী একটা পাখিকে হত্যা করতে পারলো সে? Continue reading “টুকরো দিনলিপি- ৩”

আধটুকরো পঙতি

judy-thompson-silver-lake-reflections-72dpi-660px

[১]
টুপটাপ-
বৃষ্টিতে জানালার শার্সিতে
এলোজল এঁকে চল
চুপচাপ
বকুলের সৌরভ, ঘোরলাগা অনুভব
দৃষ্টি-
জলে আঁকা ব্যাকুলতা, বলো কথা,
বৃষ্টি!

[২]

সবুজ ঘাসের বৃষ্টিপুকুর,
অঝোর জলে ভিজলো দুপুর!
ইচ্ছেপূরণ বৃষ্টিভেজা!
আজ ভিজে যা!

Continue reading “আধটুকরো পঙতি”

ইয়ে ও অন্যান্য

[১]
একটা মজার শব্দ শিখলাম ‘অ্যাগোসিনা’। অ্যাগোসিনা বলে সেই শব্দকে যা আপনার মাথায় আছে কিন্তু বলার সময় মুখে আসছে না। আমার প্রায়ই এমন হয়, তখন ‘ইয়ে’ দিয়ে কাজ চালিয়ে দিই।

যেটা আমার সাথে খুব ঘটে-
রিকশাওয়ালাকে ডাক দিলাম,
‘মামা, যাবেন?’
‘কই যাইবেন?’
‘ইয়ে, মামা ইয়ে’তে। আচ্ছা মামা থাক আপনি যান।’
Continue reading “ইয়ে ও অন্যান্য”

আপন হৃদয় গহন দ্বারে -২

জানো, তুমি ভালো অভিনয় করো।
– এমন খোঁচা দিয়ে কথা বলছো কেন?
– অভিনয় করতে পারবে আর বলতে পারবো না!
– না, পারবে না। কারণ, আমি নিজের স্বার্থে কিছু করছি না। কখনো কখনো কারো প্রতি নিষ্ঠুর হওয়াটা তার প্রতি সহৃদয় হওয়ারই নামান্তর।
– আহা মধু!
– আবারো ব্যঙ্গ করছো, আমি তোমার কী ক্ষতি করেছি বলো! Continue reading “আপন হৃদয় গহন দ্বারে -২”

পাঠানুভূতি: শেষের কবিতা

একটা বই জীবনের একেক সময়ে- একেক বয়সে পড়লে একেকরকম বোধ হয়। ইস্কুলে থাকতে (নাইন/টেন)) মনে হয়েছিলো শোভনলাল একটি দুর্বল মনের ব্যক্তি। যে মেয়ে তাকে কঠিনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তার প্রতি অনুরাগ পোষণ করাটাকে রীতিমতো ব্যক্তিত্বহীনতা জ্ঞান করেছিলাম। কেতকীকেও আত্মমর্যাদাহীন মেয়ে মনে হয়েছিলো। এদের জন্য করুনা বোধ হয়েছিলো। অমিতর অসাধারণ বুদ্ধির দীপ্তি সত্ত্বেও মনে হয়েছে এ কেবল ফরফর করে কথাই বলতে পারে, কিন্তু লাবণ্যকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা না করে দিব্যি কেতকীকে বিয়ে করে বসল! আর লাবণ্যর ধাত বড় বেশি শুষ্ক পান্ডিত্যপূর্ণ, অমানবিকভাবে হিসেবী… রীতিমতো মন খারাপকরা উপন্যাস।

অথচ, বড় হওয়ার পর পড়ে অন্যরকম বোধ হয়েছে।

Continue reading “পাঠানুভূতি: শেষের কবিতা”

টুকরো দিনলিপি -২

(১)
চশমাপরা ভদ্রলোক দুটো বই বগলদাবা করে বাকি বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখছেন। দোকানদার হেঁকে যাচ্ছেন ‘খালি বিশ খালি বিশ!’ এটা পাঁচমিশালী পুরোনো বইয়ের পসরা। যে বই-ই নিন না কেন কেবল বিশ টাকা। বেশিরভাগই দীর্ঘদিন গোডাউনে পড়ে থাকা অবিক্রিত বই। তবে এখানে খুঁজে দেখলে মাঝেমাঝে ভালো কিছু বই পাওয়া যায়।

ভদ্রলোকের হাতে দুটো বইয়ের মধ্যে একটি অনেকদিন ধরে খুঁজছি এমন একটা বই। তাই পাশে দাঁড়িয়ে দু’একটা বই নেড়েচেড়ে দেখছি। উদ্দেশ্য – উনি বইটা রেখে গেলে সাথে সাথে কুক্ষিগত করবো। আমার প্রতীক্ষা বিফল করে দিয়ে তিনি অবশেষে বইটা কিনে নিয়ে চলে গেলেন। Continue reading “টুকরো দিনলিপি -২”

কনক এখন বড় আপু (শিশুতোষ গল্প)

muslim family ছোটমামা শেষ যেবার দেশে এসেছিলেন সেবার কনককে একটা সুন্দর ডায়েরি গিফট করেছিলেন। এটা কনকের বিশেষ প্রিয় জিনিস। কনক মাঝে মাঝে এখানে লিখে। যেমন: একদিন লিখেছে, “আমার মনে অনেক দুঃখ তাই আমি কোনো বনে হারিয়ে যেতে চাই।”

তোমরা ভাবতেই পারো কনক বুঝি পরীক্ষায় লাড্ডু গুড্ডু পেয়েছে কিংবা ওর খুব অসুখ হয়েছে কিংবা কনকের প্রিয়বন্ধু- ওই যে মেয়েটা? নাম বোধহয় সায়েমা, ওর সাথে আড়ি নিয়েছে কিংবা… আসলে ঘটনাটা সেসব কিছুই না! যদি জানতে চাও, তাহলে বলি। Continue reading “কনক এখন বড় আপু (শিশুতোষ গল্প)”

টুকরো দিনলিপি -১

20e1cb46114f005b9fffd339048b531c

  ঘুমভাঙা ঘরে ভোরের সমস্ত আলো টলমল করছে, না দেখেও বুঝতে পারছি। বে আব্রু জানালার নিচে মাথা রেখে শুয়ে আছি। নানু যাওয়ার আগে পর্দা ধুয়ে গুছিয়ে রেখে গেছেন। লাগাই নি এখনো।

ঘুম ভেঙেছে বহুক্ষণ আগেই। তবুও চোখ বুঁজে থাকি সকালের রোদ্দুরে হাওয়ার শিথানে। অবশেষে চড়ুইগুলোর মধুর অত্যাচারে চোখ খুললাম যেই – মাথার ওপর আকাশ, ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ, কর্মব্যস্ত পাখিদের উড়ে যাওয়া, এক ঝলকে টুকরোটুকরো কোমল আলো বুকের ভেতর ঢুকে গেলো – হঠাৎ মনে হলো যেন অথৈ নীলে ভাসছি। কেমন হালকা হালকা পালকের মতো। ওদিকে সদ্য স্টেশন ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের হুইসেল.. পুউউ.. পুউউ …

সমস্তটা নিয়ে কী সুন্দর অনুভূতি আমি ঠিক বলতে পারবো না, চাই-ও না! কিছু জিনিস বুকের ভেতরই রাখতে হয়, তাই না?

Continue reading “টুকরো দিনলিপি -১”

তবুও প্রাচীন চাঁদ

I talk to the moon in silence or out loud. To send words an thoughts into the cosmos.
  তবুও প্রাচীন সুকুমারী চাঁদ
আলো ঢেলেছিলো – কোনো গাঙে,
বুনোঝোপে, মেঠোপথে ,
ডাহুকের ডেরায় রাতভর!

বহুদিন আগেকার কোনো  রাত্তির প্রথম প্রহরে –
হাট হতে সওদা নিয়ে আমার তরুণ পিতামহ;
দু’পাতা আলতা আর হাতে,
এমনি কোন শরতের রাতে, নিবিড় জোছনাতে
হেঁটেছিলো-  অন্ধকারে পথ খুঁজে খুঁজে।
Continue reading “তবুও প্রাচীন চাঁদ”

স্বাধীনতা কারে কয়?

”Dancing appears glamorous, easy, delightful. But the path to paradise of the achievement is not easier than any other. There is fatigue so great that the body cries, even in its sleep. There are times of complete frustration, there are daily small deaths.”    - Martha Graham

টি এস সি-র পাশে ছাউনিতে বসে আছি,বাসের অপেক্ষায়। পাশে দুটি মেয়ের কথোপকথন কানে এলো। কথাবার্তায় বোঝা গেলো এরা একই কলেজে পড়েছে, ভর্তিসংক্রান্ত কাজে এসেছে, দুজনেই বিজনেস ফ্যাকাল্টির, নিউ ফার্স্ট ইয়ারের।

এক পর্যায়ে একজন বলছে,
-তোমাকে না আমি চিনতেই পারি নি! আগে না হিজাব পরতে?
-হ্যাঁ
-ছাড়লে কেনো?
-আরে! ‘ও’ একদম পছন্দ করে না!

Continue reading “স্বাধীনতা কারে কয়?”

প্রশ্নচিহ্ন

অনুজের সাথে প্রতিযোগিতা হতো বাল্যে-
পত্রিকা কিংবা শিশুতোষ ম্যাগাজিনে
ধাঁধার উত্তর কার আগে কে মেলাতে পারি!
নানান পাজল বই কিনে দিতো মা।
আমার ওই অতুগ্র আগ্রহ দেখে।

Continue reading “প্রশ্নচিহ্ন”

কোনো কোনো রাত

Headlights in the window. Write about it. 

কোন কোন রাত্রি অদ্ভুত-
অন্তরাল থেকে একজন মুখোমুখি
এসে বসে,
আজন্ম যার সাথে বসবাস করে
আজও চেনা হলো না!

মহাজাগতিক আলোতে দেখি-
সে গভীরভাবে তাকিয়ে আছে !

এই দৃষ্টির প্রখরতায় শিউরে উঠি খানিক।
তার অবিচল মুখে স্মিতহাস্য
ফুটে ওঠে!
আমিও আশ্বস্ত হই ক্রমে…
তাকে কিছু প্রশ্ন করি-
ঠান্ডামাথায়-
উষ্ণ পানীয়ে চুমুক দিতে দিতে…
কোন কোন রাত্রির প্রয়োজন এটুকুই!

ভুলিয়ে দিও

 ভুলিয়ে দিও।
অগোচরে ঘুমিয়ে ছিলো স্বপ্নগুলো।
হঠাৎ ওরা ভাসছে হাওয়ায় এলোমেলো।
ভুলিয়ে দিও।

কেইবা ওদের ঘুম ভাঙালো,
আমায় কেন জানতে দিলো?
আচমকা কে ঘুম ভাঙিয়ে চুপটি করে পালিয়ে গেলো?
পথের বাঁকে স্বপ্নবোঝায় দাঁড়িয়ে আমি অবনত!
মেঘদীপের হঠাৎ আলোয় ইতস্তত।
Continue reading “ভুলিয়ে দিও”

বিস্মরণ

তোমায় ভুলি নি নিষাদকালো রাতে,
তোমায় ভুলি নি সংকটে সংঘাতে।
তোমায় কেবলি ডাকি আর কা’রে নয়,
যদি ছায়া ঘিরে ফেলে আসে পরাজয়।
সকরুণ অনুনয়ে তোমায় চেয়েছি পাশে।
স’বে দূরে ঠেলে দিল নির্দয় পরিহাসে। Continue reading “বিস্মরণ”